
১. জমি নির্বাচন ও প্রস্তুতি
পাট চাষের জন্য উর্বর, দোঁআশ বা বেলে দোঁআশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত। জমিতে পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা থাকা জরুরি। সাধারণত এপ্রিল মাসে পাট চাষ শুরু হয়।
জমি প্রস্তুতির ধাপ:
- প্রথমে জমি চাষ করে আগাছা পরিষ্কার করা হয়।
- প্রয়োজন হলে গোবর সার প্রয়োগ করা হয়।
- এরপর ২-৩ বার চাষ দিয়ে জমি সমান করে বীজ বপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
২. বীজ রোপন
বীজ সাধারণত মার্চের শেষ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে বপন করা হয়। বীজ বপনের সময় সুনির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
রোপনের নিয়ম:
- সারি থেকে সারির দূরত্ব: ২৫-৩০ সেমি
- গর্ত বা লাইন করে বীজ বপন করা যায়
- এক হেক্টর জমির জন্য প্রায় ৫-৭ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়

৩. চারা গজানো ও পরিচর্যা
বীজ বপনের ৪-৭ দিনের মধ্যে চারা গজায়। এরপর প্রয়োজন হয় নিয়মিত পরিচর্যার।
পরিচর্যার মধ্যে রয়েছে:
- আগাছা দমন
- প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ
- পোকামাকড় বা রোগ দমন
- পাতলা করে গাছ রাখা যাতে প্রতিটি গাছ পর্যাপ্ত আলো ও পুষ্টি পায়
৪. বৃষ্টির অপেক্ষা ও গাছ পরিপক্বতা
পাট সাধারণত ১০০-১২০ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয়। ফুল আসার পর গাছ কাটার সময় হয়। গাছের তলদেশ শক্ত হয়ে গেলে তা কাটার উপযুক্ত সময়।

৫. গাছ কাটা ও জাগ দেওয়া
পরিপক্ব গাছ কাটার পর এগুলোকে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়, যাকে বলে জাগ দেওয়া।
জাগ দেওয়ার ধাপ:
- ৩-৪ ফুট পানিতে গাছ ডুবিয়ে রাখা হয়
- ওপর থেকে ওজন দিয়ে চেপে রাখা হয়
- ১০-১৫ দিনের মধ্যে আঁশ আলাদা করার উপযোগী হয়
৬. আঁশ ছাড়ানো ও শুকানো
জাগ দেওয়া গাছ থেকে আঁশ আলাদা করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে শুকানোর জন্য ছায়াযুক্ত জায়গায় মেলে দেওয়া হয়। সরাসরি রোদ নয়, বরং ছায়ায় শুকালে আঁশের গুণমান ভালো থাকে।
৭. বাজারজাতকরণ ও মূল্য
আঁশ শুকানোর পর বান্ডিল করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। ভালো মানের আঁশ আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি হয়। বাংলাদেশে সাতক্ষীরা, খুলনা, নরসিংদী, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল প্রভৃতি জেলায় পাটের চাষ ও বাজার বেশ সক্রিয়।

পাটের ব্যবহার
- ব্যাগ, বস্তা, দড়ি ও কার্পেট তৈরি
- পাট-চালিত টেক্সটাইল ও ফ্যাশন সামগ্রী
- পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং
- শিল্পে বায়ো-প্লাস্টিক বা কম্পোজিট তৈরিতে

“সোনালী আঁশ” শুধু একটি ফসল নয়, এটি বাংলাদেশের পরিচিতি, গৌরব ও সম্ভাবনার প্রতীক। পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ায় পাট চাষ কৃষকের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দ্বার উন্মোচন করে।
Leave a Reply