বালাপোতা বাবার ধাম প্রতিষ্ঠাতা:
মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন মহন্ত পতিত পাবন সরকার ১৯৮০ সালে।
তিনিই ছিলেন “বাবা তারকনাথ”-এর উপাসক এবং পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষদের কাছে তিনিও “বাবা” নামে পরিচিতি লাভ করেন।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার একটি অন্যতম পবিত্র স্থান হলো বালাপোতা বাবার ধাম। এটি শুধু একটি মন্দির নয়, বরং হাজারো মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি ও সামাজিক মিলনের প্রতীক। প্রতিবছর চৈত্র মাসের শেষ সোমবার এখানে লাখো ভক্ত সমবেত হন। মন্দিরটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধর্মীয় তীর্থস্থান।

মূল আরাধ্য
এই মন্দিরে পূজিত হন শ্রীশ্রী বাবা তারকনাথ, হর হর মহাদেব। ভক্তদের বিশ্বাস, বাবার চরণে অন্তর থেকে প্রার্থনা করলে মনের সকল ইচ্ছা পূর্ণ হয়। প্রতিদিন এখানে নিয়মিত চলে আরতি, পূজা, হোমযজ্ঞ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনা।

চৈত্র মাসে “বাবার মাথায় জল প্রদান করা! বালাপোতা বাবার ধামের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব!
বালাপোতা বাবার ধামে প্রতিবছর বাংলা চৈত্র মাসে হয় এক অনন্য শিবলিঙ্গ জলদান উৎসব। পহেলা চৈত্র থেকে মাসজুড়ে প্রতিদিন ভক্তরা বাবার (শিব লিঙ্গে) মাথায় জল ঢেলে তাদের ইচ্ছা, আশা ও সংযম প্রকাশ করেন।

কবে শুরু ও শেষ হয়?
- উৎসব শুরু: পহেলা চৈত্র, বাংলা বছরের প্রথম দিন থেকে
- উৎসবের মূল আকর্ষণ: চৈত্র মাসের প্রথম সোমবার ও শেষ চৈত্রসংক্রান্তি
- উৎসব শেষ হয় অনবরত জলদান-পর্ব ও পূজার মধ্য দিয়ে

কীভাবে হয় জলদান?
- ভক্তরা দুধ বা পানি ভর্তি কলসী-বাটি নিয়ে সকাল থেকে অঙ্গনে জড়ো হন।
- মৌনভাবে এবং বিশ্বাস দিয়ে বাবার (শিবলিঙ্গের) মাথায় জলে স্নান, জলদান চলতে থাকে সারাদিন ।
- কেউ কেউ ১০৮ পাত্র জলে মাস্ক স্থাপন করেন, কেউ আবার প্রথম বা তৃতীয় সোমবার বিকল্প হিসেবে অংশ নেন

ধর্মীয় কথ্য মতে:
একবার ভারতের তারকেশ্বর ভ্রমণে না যেতে পারায় ভক্তরা আলঈকভাবে চৈত্রের প্রথম দিকে শেষ পর্যন্ত “শিবলিঙ্গে” জল প্রদান করেন!
বিশ্বাস: “জলদান করলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, মনের কামনা পূরণ হয়”

ভক্তদের প্রচলিত অভিমত:
যে যা চেয়েছে সে খালি হাতে ফিরে যায়নি”

যাতায়াত ও অবস্থান
মন্দিরটি অবস্থিত:
📍 বালাপোতা, আশাশুনি, সাতক্ষীরা।
কীভাবে যাবেন:
- সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে বাস/সিএনজি/ভ্যানে করে সরাসরি মন্দিরের সামনে পর্যন্ত যাওয়া যায়।
- আশাশুনি বাজার থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে।

স্থাপত্য ও পরিবেশ
মন্দিরটির রঙিন ও দৃষ্টিনন্দন গঠন ভক্তদের আকর্ষণ করে। প্রবেশপথে দেখা যায় ফুলে সাজানো গেট, পূজার ঘর, দোতলা আশ্রম, এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামের জায়গা।
🙏 ধর্মীয় আচার ও রীতি:
- প্রতিদিন ভোরে পুজা
- সন্ধ্যায় আরতি
- ভক্তরা ফুল, মালা, ধূপ, মোমবাতি ও ফলমুল অর্পণ করেন
- কীর্তনের সময় ভক্তরা হাতে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন
বালাপোতা বাবার ধাম শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এটি বিশ্বাস, ভক্তি ও মানবতার প্রতীক। প্রতিটি পূর্ণিমা, চৈত্র মাস কিংবা যে কোনো দিন, একবার বাবার ধামে গেলে অন্তর শান্তিতে ভরে যায়। যারা ধর্মীয় ভ্রমণ ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই তালিকায় রাখা উচিত।
Leave a Reply