
গ্রামবাংলার পথে ঘাটে, পুকুর পাড়ে কিংবা মাঠের ধারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছ আমাদের গ্রামের সৌন্দর্যের অংশ। বহু বছর ধরে সে সেখানে দাঁড়িয়ে, যেন গ্রামের ইতিহাসের সাক্ষী। সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, কিন্তু তালগাছ রয়ে গেছে একইরকম।

তালগাছ আর প্রকৃতির সম্পর্ক
তালগাছ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- এটি শক্ত মাটিতে দাঁড়িয়ে মাটির ক্ষয় রোধ করে।
- পাখিদের বাসা বাঁধার নিরাপদ জায়গা হয় এই গাছের উঁচু মাথা।
- বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে গ্রামের মানুষ তালগাছকেই একসময় ব্যবহার করত।
আবার, তালগাছ ঝড়ে অনেক সময় বিদ্যুৎ বা বজ্রপাত টেনে নেয়, এজন্য মানুষ একে “প্রাকৃতিক বজ্র নিরোধক” বলেও জানে।

তালগাছ ও গ্রামীণ জীবন
ছোটবেলায় বিকেলে খালি পায়ে দৌড়ে তালগাছের ছায়ায় বসা, তাল কুড়ানোর প্রতিযোগিতা, কিংবা তালপাতা দিয়ে বানানো পাখা, এসব যেন গ্রামীণ জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে।
অনেক এলাকায় এখনো তালগাছের পাতায় ঘরের ছাউনি দেওয়া হয়। এই পাতাগুলো গরমে ঠান্ডা রাখে ঘর। আবার তালগাছের কাঠও অনেক মজবুত – ঘরের খুঁটি, পাটাতন বা চৌকাঠেও ব্যবহার হয়।
তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে,
মাঠজুড়ে রাখে চোখ,
আকাশ ছুঁয়ে বলছে যেন –
আমি চিরকাল একা লোক।
ঝড় আসুক, বৃষ্টি নামুক,
তালগাছ থাকে ঠাঁয়,
ধূসর বিকেল, লাল সূর্যেতে
সে কখনো দেয় না ভয়।
তার ছায়াতে বসে থাকে
পাখির দল দিনশেষে,
আর তালফল পেকে ঝরে
শরতের স্বপ্নভেসে।
কেউ বলে সে গ্রামের প্রহরী,
কেউ বলে সে ছায়ার ঠাঁই,
তালগাছ তাই শুধু গাছ নয়,
সে যেন বাংলা মায়ের ঐ চরণ-ছায়া পাই।
Leave a Reply