উঁচু শিরে দাঁড়িয়ে থাকে, মাঠের কোণে চুপ,
তালগাছ যেন পাহারাদার, প্রকৃতির এক রূপ।
ঝিরঝিরে হাওয়ায় দুলে ওঠে, পাতায় নাচে গান,
সন্ধ্যার ধ্বনি বাজে যখন, পাখিরা পায় ঠাঁই।
বৃষ্টিতে তার শরীর ভেজে, কাঁপে পাতার ঢাল,
শিশির ভরা সকালের সাথে করে নব আলোয় কাল।
তালফল তার মোহন গন্ধে, মাতায় গাঁয়ের প্রাণ,
তালগাছ যেন বাংলার মাঠে, নিঃশব্দে দেয় প্রাণ।

তুমি কি দেখেছ মাঠের পাশে, তালগাছ একা দাঁড়ায়,
নীরবতার ভেতর সে যেন, গ্রামের গল্প গায়।
ঝড় এলে কাঁপে, আলো এলে হাসে,
স্মৃতির মাঝে সে কী করে ভাসে!
পাখি এসে করে বাসা, গায় সারাদিন গান,
তালের রসে শীতের ভোরে মিষ্টি জেগে জান।
তালগাছ তুমি বাংলার প্রাণ, ইতিহাসের পাঠ,
তোমার ছায়ায় কাটে সময়, শান্তির সাথে সাথ।

ছোটবেলায় উঠতাম যারে, সেই তালগাছ বড়,
তালের রসে, পাতা নাচে, মাটির গন্ধ ঘোর।
তালের বড়া, খেজুর পিঠা, শীতের গন্ধে ভরা,
তালগাছ মানেই স্মৃতির খাতা, ভালোবাসার ধরা।
আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা করে, পাতার তালে তালে,
তালগাছ শেখায় নীরবতায়, কেমন করে চলে।
আমার মনের খাতায় আজো, তুমি রয়ে যাও,
তালগাছ তুমি গ্রামবাংলার, এক আশ্চর্য ছায়া-ছাও।

Leave a Reply